TESOL শিক্ষকদের জন্য সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ: ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান জানুন

webmaster

TESOL 강사가 겪는 문화적 도전 - **A diverse and inclusive modern classroom setting.** A brightly lit, spacious classroom is bustling...

বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজি শেখানো… শুনতে যত সহজ মনে হয়, এর পেছনের গল্পটা কিন্তু বেশ জটিল আর কৌতূহলোদ্দীপক! আমরা যারা TESOL সার্টিফাইড হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন দেখি বা করছি, তারা শুধু ব্যাকরণ আর উচ্চারণ শেখাই না, বরং এক নতুন সংস্কৃতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার এক বিশাল চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হই। ভাষা শেখানোর পাশাপাশি অনেক সময় সাংস্কৃতিক ব্যবধানই ক্লাসরুমের অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনে আছে, আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জাপানে পড়াতে গিয়ে ছোট্ট একটি ভুলের জন্য ক্লাসে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিল, কারণ সে সেখানকার শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক রীতিনীতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিল না। আজকালকার দিনে বৈচিত্র্যময় ক্লাসরুমগুলোতে কেবল ভাষাগত দক্ষতা থাকলেই হয় না, বরং অন্য সংস্কৃতির প্রতি গভীর বোঝাপড়া থাকাও ভীষণ জরুরি। সামনের দিনগুলোতে যখন অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আরও কাছাকাছি আসবে, তখন এই সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার গুরুত্ব আরও বাড়বে বৈ কমবে না। আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের TESOL শিক্ষকদের সাথে কথা বলে যে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টিগুলো পেয়েছি, তার আলোকেই এই চ্যালেঞ্জগুলো এবং তা মোকাবিলা করার উপায় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

সংস্কৃতির দেয়াল পেরিয়ে ক্লাসরুমের যাত্রা

TESOL 강사가 겪는 문화적 도전 - **A diverse and inclusive modern classroom setting.** A brightly lit, spacious classroom is bustling...
বিদেশী শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানো শুধু শব্দ আর ব্যাকরণ বোঝানো নয়, বরং তাদের সংস্কৃতির গভীরে প্রবেশ করে তাদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তোলা। আমার নিজের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে যে, যখন আমি একজন শিক্ষার্থীর দেশীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছুটা জানতাম, তখন তার সাথে একটি আত্মিক বন্ধন তৈরি করা সহজ হতো। একবার এক মধ্যপ্রাচ্যের শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। পরে যখন তাদের সামাজিক রীতিনীতি কিছুটা বোঝার চেষ্টা করলাম, তখন দেখলাম ক্লাসের পরিবেশটাই বদলে গেল। শুধু ভাষাগত দক্ষতা থাকলেই হয় না, বরং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট, তাদের শেখার ধরন, এমনকি তাদের যোগাযোগ শৈলী সম্পর্কেও আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। আজকালকার দিনে গ্লোবাল ভিলেজের এই যুগে, আমাদের ক্লাসরুমগুলো যেন একেকটি ছোটখাটো বিশ্ব। এখানে যেমন নানা ভাষাভাষীর মানুষ থাকে, তেমনি তাদের সংস্কৃতিরও থাকে এক বিচিত্র সমাহার। তাদের মানসিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধকে সম্মান করে এগোলে পড়ানোর কাজটি অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়। সত্যি বলতে, একজন TESOL শিক্ষক হিসেবে আমার মনে হয়েছে, এই সাংস্কৃতিক সচেতনতা আমাদের কাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা শিক্ষার্থীদের শুধু ইংরেজি শেখাতেই নয়, বরং একটি নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতেও সাহায্য করে।

সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা: কেবল কথার কথা নয়

সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা মানে শুধু অন্য সংস্কৃতিকে সম্মান করা নয়, বরং তাদের প্রথা, বিশ্বাস এবং যোগাযোগ পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখা। আমি দেখেছি, যখন একজন শিক্ষক এই বিষয়ে যত্নশীল হন, তখন শিক্ষার্থীরাও তার প্রতি বেশি আস্থাশীল হয়। আমার এক সহকর্মী ইন্দোনেশিয়ায় পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যক্তিগত প্রশ্ন না করার একটি অলিখিত নিয়ম শিখেছিলেন। আমাদের দেশে যা খুব স্বাভাবিক, অন্য সংস্কৃতিতে তা হয়তো ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘনের শামিল। এই সংবেদনশীলতা ক্লাসে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে সাহায্য করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে।

শিক্ষার ধরনে সাংস্কৃতিক প্রভাব

বিভিন্ন সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের শেখার ধরনও আলাদা হয়। যেমন, কিছু সংস্কৃতিতে শিক্ষককে প্রশ্ন করাকে বেয়াদবি মনে করা হয়, আবার কিছু সংস্কৃতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহ দেওয়া হয়। আমি যখন থাইল্যান্ডে পড়াতাম, তখন শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্ন করতে বলাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। পরে বুঝতে পারলাম, তাদের গ্রুপ ওয়ার্ক বা জোড়ায় কাজ করার সুযোগ দিলে তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলে। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো বোঝা একজন TESOL শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই ভিন্নতাগুলো মেনে নিয়েই আমাদের শিক্ষণ পদ্ধতি তৈরি করা উচিত।

অজানা সংস্কৃতি: ভুল বোঝাবুঝির উৎস না সমাধানের পথ?

Advertisement

ক্লাসের মধ্যে সাংস্কৃতিক ভিন্নতা সবসময়ই কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, এই ভুল বোঝাবুঝিগুলোই আমাদের শেখার অন্যতম সেরা সুযোগ করে দেয়। আমার প্রথম দিকের শিক্ষকতার সময় এক জাপানি ছাত্রীর সাথে একটা ছোট ঘটনা হয়েছিল। সে ক্লাসে সবসময় চুপচাপ থাকত এবং সরাসরি চোখে চোখ রেখে কথা বলত না। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, সে হয়তো আমার পড়ানোতে আগ্রহী নয়। পরে যখন জাপানি সংস্কৃতি নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলাম, তখন জানতে পারলাম, তাদের সংস্কৃতিতে শিক্ষকের সাথে সরাসরি চোখে চোখ রেখে কথা বলাকে অসম্মানজনক মনে করা হতে পারে এবং চুপ থাকা মানেই সব বুঝতে না পারা নয়। এই আবিষ্কারটা আমার শিক্ষকতার ধারণাই বদলে দিয়েছিল। এরপর থেকে আমি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করতে শুরু করলাম। এই ধরনের অভিজ্ঞতাই আসলে একজন শিক্ষককে আরও দক্ষ করে তোলে, আর শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ককেও আরও মজবুত করে। আমার মনে হয়, এই ছোটখাটো ভুলগুলো থেকে আমরা অনেক বড় শিক্ষা নিতে পারি।

অলিখিত নিয়ম ও ভাষা বোঝার চ্যালেঞ্জ

প্রতিটি সংস্কৃতিরই কিছু অলিখিত নিয়ম থাকে, যা ভাষাগত দক্ষতার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ব্যক্তিগত দূরত্ব, এমনকি নীরবতাও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ভিন্ন অর্থ বহন করে। একবার এক ইউরোপীয় শিক্ষার্থী ক্লাসে খুব কাছাকাছি এসে কথা বলছিল, যা আমার একজন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল। তখন আমাকে উভয়কেই বোঝাতে হয়েছিল যে, এই ভিন্নতাগুলো কেবল যোগাযোগের একটি অংশ। একজন TESOL শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু ইংরেজি শেখানোই নয়, বরং এই অলিখিত নিয়মগুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করাও বটে।

কঠিন পরিস্থিতি থেকে শেখার সুযোগ

যখন সাংস্কৃতিক কারণে কোনো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন সেটাকে একটি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। শিক্ষক হিসেবে আমাদের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করা। একবার একদল কোরিয়ান শিক্ষার্থীকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, তারা দলগত কাজে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেয়ে সহযোগিতা করতে বেশি পছন্দ করে। এই জ্ঞান আমাকে তাদের জন্য আরও কার্যকর শিক্ষণ পদ্ধতি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল।

ভাষার বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু থাকে

আমরা যারা TESOL সার্টিফাইড হয়ে বিশ্বের দরবারে ইংরেজি শেখানোর স্বপ্ন দেখি, তারা প্রায়শই ভাষার ব্যাকরণ, শব্দভাণ্ডার বা উচ্চারণের দিকেই বেশি মনোযোগ দিই। কিন্তু আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলে, ভাষার বাইরেও শিক্ষার্থীদের সাথে এমন অনেক কিছু শেয়ার করার থাকে যা তাদের শেখার আগ্রহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। মনে পড়ে, এক অস্ট্রেলিয়ান সহকর্মী আমাকে বলেছিলেন, যখন তিনি মধ্যপ্রাচ্যের শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছিলেন, তখন শুধু ইংরেজি শেখানোর বদলে তিনি তাদের সাথে অস্ট্রেলিয়ার জীবনযাপন, সংস্কৃতি, বা এমনকি খেলাধুলা নিয়েও কথা বলতেন। তাতে দেখা যেত, শিক্ষার্থীরা শুধু ইংরেজি শিখছে না, বরং একটি নতুন জগত সম্পর্কে জানতে পারছে, যা তাদের ক্লাসরুমে আরও সক্রিয় করে তুলত। আমি নিজেও দেখেছি, যখন আমি আমার জীবনের গল্প বা মজার কোনো অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সাথে শেয়ার করি, তখন তাদের চোখেমুখে এক অন্যরকম ঔজ্জ্বল্য দেখা যায়। এটা শুধু ভাষার ক্লাসের গণ্ডি পেরিয়ে এক মানবিক সংযোগ তৈরি করে। এই ধরনের সংযোগ শিক্ষার্থীদেরকে শুধু ভাষার দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং তাদের সার্বিক ব্যক্তিত্ব বিকাশেও সহায়তা করে। এই বিষয়গুলোই একজন শিক্ষককে কেবল “শিক্ষক” থেকে “মেন্টর”-এ রূপান্তরিত করে।

সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান: সেতু বন্ধনের শিল্প

শিক্ষক হিসেবে আমরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করে তুলতে পারি। আমি প্রায়শই শিক্ষার্থীদেরকে তাদের দেশের উৎসব, খাবার বা ঐতিহ্য সম্পর্কে ক্লাসে বলতে উৎসাহিত করি। এতে কেবল তারা ইংরেজিতে কথা বলার সুযোগ পায় না, বরং তাদের নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। আবার অন্যদিকে, অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও নতুন কিছু জানতে পারে। আমার এক আফ্রিকান শিক্ষার্থী একবার তার দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক নিয়ে ক্লাসে এসেছিল। সেদিন ক্লাসের সবাই এতটাই উত্তেজিত ছিল যে, পুরো ক্লাসটাই যেন একটা সাংস্কৃতিক মেলায় পরিণত হয়েছিল।

ব্যক্তিগত গল্প আর অভিজ্ঞতা শেয়ার করা

শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যক্তিগত গল্প বা অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে তারা শিক্ষককে আরও আপন মনে করে। এতে ক্লাসের পরিবেশ আরও বন্ধুত্বপূর্ণ হয় এবং শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে বা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধা করে না। একবার আমি আমার নিজের বিদেশ ভ্রমণের একটি মজার ঘটনা বলেছিলাম, যেখানে আমি একটি নতুন ভাষা শেখার চেষ্টা করছিলাম এবং কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। এই গল্পটি শিক্ষার্থীদের সাথে এতটাই মিলে গিয়েছিল যে, সেদিন ক্লাসে তাদের সাথে আমার একটি দারুণ বন্ধন তৈরি হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের মন জয় করার কৌশল: শুধু পড়ানো নয়

Advertisement

একজন TESOL শিক্ষক হিসেবে আমাদের কাজ কেবল সিলেবাস শেষ করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মন জয় করা। যখন শিক্ষার্থীরা অনুভব করে যে আপনি তাদের প্রতি যত্নশীল, তখন তারা শেখার প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে ওঠে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমি শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং একজন বন্ধু বা মেন্টর হিসেবে শিক্ষার্থীদের সাথে মিশেছি, তখন তাদের শেখার গতি অনেক বেড়ে গেছে। মনে আছে, একবার আমার এক ইউরোপীয় শিক্ষার্থী ইংরেজি বলতে খুব ভয় পেত। আমি তার সাথে আলাদাভাবে সময় নিয়ে কথা বললাম, তার ভয়টা কোথায় সেটা বোঝার চেষ্টা করলাম এবং তাকে ছোট ছোট টাস্ক দিতে শুরু করলাম। আস্তে আস্তে সে তার ভয় কাটিয়ে উঠল এবং ক্লাসে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করল। এই পরিবর্তনটা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছিল। আসলে, ক্লাসের বাইরেও যখন একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে একটি মানবিক সম্পর্ক তৈরি করেন, তখন তাদের মধ্যে শেখার স্পৃহা অনেক বেড়ে যায়। শিক্ষকের প্রতি তাদের বিশ্বাস গড়ে ওঠে, যা শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। এই ছোট ছোট প্রচেষ্টাই একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের কাছে স্মরণীয় করে রাখে।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা

শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে তাদের জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চাওয়া। তাদের শখ, স্বপ্ন বা এমনকি তাদের দিনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া তাদের কাছে আপনাকে আরও বেশি মানবিক করে তুলবে। আমি প্রায়ই ক্লাসের শুরুতে দুই-এক মিনিট তাদের সপ্তাহের খবর বা সপ্তাহান্তে তারা কী করেছে, তা জিজ্ঞেস করি। এতে তারা খোলামেলা কথা বলার সুযোগ পায় এবং ক্লাসের একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়।

ফিডব্যাক ও অনুপ্রেরণা

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত গঠনমূলক ফিডব্যাক দেওয়া এবং তাদের ছোট ছোট উন্নতিকে স্বীকৃতি দেওয়া খুব জরুরি। আমি দেখেছি, যখন আমি কোনো শিক্ষার্থীর একটি ছোট উন্নতিকেও প্রশংসা করি, তখন তারা আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত হয়। একবার এক কোরিয়ান শিক্ষার্থী তার উচ্চারণে বেশ উন্নতি করেছিল। আমি তাকে সবার সামনে প্রশংসা করেছিলাম এবং এর কারণ ব্যাখ্যা করেছিলাম। সেদিন তার মুখে যে হাসি দেখেছিলাম, তা আমার শিক্ষকতার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।

প্রযুক্তির সাথে সংস্কৃতির মেলবন্ধন: অনলাইন শিক্ষার নতুন দিগন্ত

আজকাল অনলাইন শিক্ষার দাপট যেভাবে বাড়ছে, তাতে একজন TESOL শিক্ষক হিসেবে আমাদের প্রযুক্তির সাথে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোটা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে ক্লাসরুমে বসে মুখোমুখি পড়ানো যেত, এখন সেখানে হাজার মাইল দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের সাথেও সংযোগ স্থাপন করতে হচ্ছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমি প্রথম অনলাইন ক্লাস শুরু করেছিলাম, তখন ভেবেছিলাম এটা শুধু ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমেই হয়ে যাবে। কিন্তু খুব দ্রুতই বুঝতে পারলাম যে, এটা শুধু ক্যামেরা অন করে পড়ানো নয়, বরং আরও অনেক গভীরে কিছু। অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সময় আমাকে যেমন বিভিন্ন দেশের সময় অঞ্চল নিয়ে ভাবতে হয়েছে, তেমনি তাদের ইন্টারনেট সংযোগের স্থিতিশীলতা বা ডিজিটাল সংস্কৃতির ভিন্নতাও মাথায় রাখতে হয়েছে। একবার এক ল্যাটিন আমেরিকান শিক্ষার্থী ল্যাপটপে না হয়ে মোবাইল ফোনে ক্লাস করত, যার ফলে সে কিছু ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট ঠিকমতো দেখতে পেত না। তখন আমাকে আমার শিক্ষণ পদ্ধতি কিছুটা পরিবর্তন করে তার উপযোগী করে তুলতে হয়েছিল। প্রযুক্তির এই যুগে আমরা যেন শুধু টুলসগুলোর ব্যবহার শিখি না, বরং কীভাবে এই টুলসগুলো বিভিন্ন সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উপযোগী করে তোলা যায়, সেই দক্ষতাও অর্জন করি। আমার মনে হয়, এই সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ অনলাইন শিক্ষার মূল ভিত্তি।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা

TESOL 강사가 겪는 문화적 도전 - **Two young adults engaging in a friendly cultural exchange over traditional crafts.** In a vibrant,...
অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনলাইন শিষ্টাচার মেনে চলে। যেমন, কিছু সংস্কৃতিতে ক্লাসের সময় ভিডিও অন রাখাটা বাধ্যতামূলক, আবার কিছু সংস্কৃতিতে সেটা খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। আমাকে একবার আমার ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হয়েছিল যে, ক্লাসে চ্যাট বক্সে শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা উচিত, ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানো নয়।

ডিজিটাল টুলসের কার্যকর ব্যবহার

বিভিন্ন ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে আমরা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারি। যেমন, ইন্টারেক্টিভ কুইজ, অনলাইন হোয়াইটবোর্ড বা ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রাখা যায়। আমি দেখেছি, যখন আমি কুইজলেট বা কাহুট-এর মতো টুলস ব্যবহার করেছি, তখন শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি উৎসাহ নিয়ে ক্লাসে অংশ নিয়েছে।

একজন TESOL শিক্ষকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: ভুল থেকে শেখা

আমার শিক্ষকতার জীবনে বহুবার ছোট ছোট ভুল করেছি, কিন্তু প্রতিটা ভুলই আমাকে নতুন কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। মনে আছে, আমার শিক্ষকতার শুরুর দিকে এক চাইনিজ শিক্ষার্থীর নাম উচ্চারণ করতে বারবার ভুল করতাম। ব্যাপারটা খুব ছোট মনে হলেও, শিক্ষার্থীর কাছে এটা তার পরিচয়কে সঠিকভাবে স্বীকৃতি না দেওয়ার মতো লাগতে পারে। একদিন সে নিজেই আমাকে তার নামের সঠিক উচ্চারণ শিখিয়েছিল, আর আমি সেদিন থেকে তার নামটা একদম নির্ভুলভাবে বলতে শুরু করি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছিল যে, শুধু নাম নয়, প্রতিটি শিক্ষার্থীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং তাদের পছন্দ-অপছন্দকে সম্মান জানানো কতটা জরুরি। একবার এক ভারতীয় ছাত্রীর সাথে কথা বলতে গিয়ে আমি অজান্তেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু প্রশ্ন করে ফেলেছিলাম, যা আমাদের সংস্কৃতিতে খুবই স্বাভাবিক হলেও তার কাছে হয়তো একটু অস্বস্তিকর লেগেছিল। এরপর থেকে আমি আরও সতর্ক হয়েছি এবং বুঝেছি যে, শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় তাদের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রাখা কতটা দরকারি। এই ভুলগুলোই আমাকে একজন আরও ভালো এবং সংবেদনশীল শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলেছে। সত্যি বলতে, একজন ভালো শিক্ষক হওয়ার পথে ভুল করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, আসল কথা হলো সেই ভুলগুলো থেকে শেখা এবং নিজেকে উন্নত করা।

সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ সাধারণ উদাহরণ শিক্ষকের করণীয়
সরাসরি যোগাযোগ কিছু সংস্কৃতিতে শিক্ষককে প্রশ্ন করা বা সরাসরি চোখাচোখি করাকে অসম্মানজনক মনে করা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক কাজ (গ্রুপ ওয়ার্ক) বাড়ানো, পরোক্ষ প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া।
ব্যক্তিগত স্থান বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত দূরত্বের ধারণা ভিন্ন হয়, যা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত দূরত্বের ধারণা সম্পর্কে জানানো, ক্লাসে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
শিক্ষার ধরন কিছু সংস্কৃতিতে মুখস্থ করাকে উৎসাহিত করা হয়, আবার কিছু সংস্কৃতিতে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষণ পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনা, যেমন – বিতর্ক, কেস স্টাডি, এবং হাতে কলমে কাজ অন্তর্ভুক্ত করা।
ফিডব্যাক গ্রহণ সরাসরি নেতিবাচক ফিডব্যাক কিছু সংস্কৃতিতে অপমানজনক মনে হতে পারে। গঠনমূলক এবং ইতিবাচক ফিডব্যাক দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা, ব্যক্তিগতভাবে ফিডব্যাক প্রদান করা।
Advertisement

শেখার যাত্রা: শিক্ষকদেরও ছাত্র হতে হয়

শিক্ষক হিসেবে আমরাও প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখি। শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি, তাদের জীবনযাত্রা, এমনকি তাদের শেখার ধরন সম্পর্কে জানতে চাওয়া আমাদের শেখার আগ্রহকে বাড়িয়ে তোলে। আমি প্রায়শই আমার শিক্ষার্থীদের তাদের দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তাদের কাছ থেকে যা শিখি, তা আমাকে আমার পরের ক্লাসগুলো আরও ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে।

ভুলগুলোকে উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখা

ভুল করাটা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভুল থেকে শেখাটাই আসল কথা। আমার শিক্ষকতার শুরুতে আমি কিছু বিষয়ে একেবারেই অনভিজ্ঞ ছিলাম। কিন্তু প্রতিটি চ্যালেঞ্জই আমাকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ দিয়েছে। আমার মনে হয়, একজন ভালো শিক্ষক তিনিই যিনি নিজের ভুলগুলো স্বীকার করেন এবং সেগুলোকে নিজের উন্নতির ধাপ হিসেবে দেখেন।

ভবিষ্যতের ক্লাসরুম: বৈচিত্র্যময় বিশ্বে প্রস্তুতি

ভবিষ্যতের ক্লাসরুম কেমন হবে, তা নিয়ে আমি প্রায়শই ভাবি। আমার মনে হয়, দিন যত যাচ্ছে, আমাদের ক্লাসরুমগুলো তত বেশি বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা আসছে, এবং তাদের সাথে আসছে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, তাদের শেখার ধরন আর তাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যাশা। একজন TESOL শিক্ষক হিসেবে এই পরিবর্তনগুলোর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকাটা খুব জরুরি। শুধু ইংরেজি শেখালেই হবে না, বরং একজন 글로벌 সিটিজেন হিসেবে শিক্ষার্থীদেরকে গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে। মনে পড়ে, আমার এক বন্ধু বর্তমানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) ব্যবহার করে ইংরেজি শেখাচ্ছে। সে বলছিল, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এমন সব অভিজ্ঞতা পাচ্ছে, যা সাধারণ ক্লাসরুমে সম্ভব নয়। যেমন, তারা VR হেডসেট পরে লন্ডনের রাস্তায় হেঁটে বেড়াচ্ছে বা নিউইয়র্কের ক্যাফেতে কফি অর্ডার করছে। এতে তাদের ভাষার দক্ষতা তো বাড়ছেই, সাথে সাথে সাংস্কৃতিক জ্ঞানও সমৃদ্ধ হচ্ছে। আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে, এবং আমাদের শিক্ষকদেরকেও এর সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে। এই প্রস্তুতিগুলোই আমাদের শিক্ষার্থীদের একটি বৈচিত্র্যময় বিশ্বে টিকে থাকতে সাহায্য করবে এবং তাদের সম্ভাবনাগুলোকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি

ভবিষ্যতের ক্লাসরুম হবে প্রযুক্তিনির্ভর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) এর মতো প্রযুক্তিগুলো শিক্ষণ পদ্ধতিকে আরও ইন্টারেক্টিভ করে তুলবে। একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের এই প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে এবং সেগুলোকে আমাদের ক্লাসে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

সার্বক্ষণিক শিক্ষা ও পেশাদারী উন্নতি

একজন TESOL শিক্ষক হিসেবে আমাদের নিজেদেরও সার্বক্ষণিক শিখতে হবে এবং পেশাদারী উন্নতি ঘটাতে হবে। নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি, সাংস্কৃতিক প্রবণতা বা প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে আপ-টু-ডেট থাকা জরুরি। বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনার বা অনলাইন কোর্স করে আমরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারি।

গল্পের শেষ নয়, নতুন শুরুর কথা

Advertisement

শিক্ষকতার এই দীর্ঘ যাত্রায় আমি প্রতিনিয়ত শিখেছি যে, ক্লাসরুম শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো জায়গা নয়, বরং এটি একটি জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সংস্কৃতি আর তার শেখার ধরন একেকটি নতুন রঙ যোগ করে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমি শুধু সিলেবাসের পাতায় আটকে না থেকে শিক্ষার্থীদের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করেছি, তাদের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েছি, তখন আমার ক্লাসগুলো যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে শুরু করে মানবিক সংযোগ তৈরি করা পর্যন্ত, প্রতিটি পদক্ষেপই আমাকে একজন ভালো শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলেছে। এই পথচলা আসলে শেষ হওয়ার নয়, বরং প্রতি দিনই নতুন করে শেখার আর নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি অসাধারণ সুযোগ।

জেনে রাখা ভালো কিছু জরুরি তথ্য

১. সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা: শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত থাকা একজন TESOL শিক্ষকের জন্য অত্যাবশ্যক। এটি ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।

২. শিক্ষণ পদ্ধতির বৈচিত্র্য: প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার ধরন আলাদা। তাই লেকচার পদ্ধতির পাশাপাশি গ্রুপ ওয়ার্ক, বিতর্ক, প্রজেক্ট এবং কেস স্টাডির মতো বিভিন্ন শিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত যাতে সবাই উপকৃত হতে পারে।

৩. ব্যক্তিগত সংযোগ স্থাপন: শিক্ষার্থীদের সাথে একটি মানবিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা তাদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করে। তাদের ব্যক্তিগত গল্প, আগ্রহ এবং স্বপ্ন সম্পর্কে জানালে ক্লাসের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়।

৪. প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার: অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিজিটাল টুলস যেমন ইন্টারেক্টিভ কুইজ, অনলাইন হোয়াইটবোর্ড এবং শিক্ষামূলক ভিডিওর কার্যকর ব্যবহার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে।

৫. গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া এবং উৎসাহ: শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট অগ্রগতিকে প্রশংসা করা এবং নিয়মিত গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া দেওয়া তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শেখার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে

আমাদের TESOL শিক্ষকতার মূলমন্ত্রই হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের শুধু ইংরেজি শেখানো নয়, বরং তাদের একটি বৈচিত্র্যময় বিশ্বে সফলভাবে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা। আমার অভিজ্ঞতা বলে, যখন আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আলাদা আলাদা মানুষ হিসেবে দেখি, তাদের সংস্কৃতি, তাদের মূল্যবোধ এবং তাদের শেখার ধরনকে সম্মান করি, তখনই আসলে একজন শিক্ষক হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারি। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোও আমাদের কাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শিক্ষকের দায়িত্ব

  • সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের নিজেদের সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষার্থীদেরকেও বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাতে উৎসাহিত করা।
  • নমনীয় শিক্ষণ পদ্ধতি: ক্লাসের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন শেখার পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রমকে আরও নমনীয় করে তোলা।
  • যোগাযোগ দক্ষতা: শুধু মৌখিক যোগাযোগ নয়, শিক্ষার্থীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং অলিখিত নিয়মগুলোও বোঝার চেষ্টা করা।

শিক্ষার্থীর প্রতি মনোভাব

  • আন্তরিকতা: শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং সহানুভূতি দেখানো, যাতে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করে এবং খোলাখুলিভাবে কথা বলতে পারে।
  • ইতিবাচক পরিবেশ: ক্লাসরুমে এমন একটি ইতিবাচক এবং আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভুল করতে বা প্রশ্ন করতে ভয় পাবে না।
  • প্রেরণা: শিক্ষার্থীদেরকে সব সময় অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত হতে সাহায্য করা।

সবশেষে বলতে চাই, শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি শিল্প। এই শিল্পকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত শিখতে হবে, মানিয়ে নিতে হবে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতাগুলো একে অপরের সাথে ভাগ করে নিতে হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: বিদেশী শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর সময় সাংস্কৃতিক পার্থক্যগুলো আসলে কীভাবে ক্লাসরুমে প্রভাব ফেলে এবং এগুলি কেন এত জটিল মনে হয়?

উ: আরে বাবা, এই প্রশ্নটা আমার মনে হয় প্রায় সব TESOL শিক্ষকেরই প্রথম দিকে আসে! আমি নিজেও যখন প্রথম মালয়য়েশিয়াতে ক্লাস নিতে গেলাম, তখন বুঝলাম যে শুধু ব্যাকরণ আর শব্দার্থ শেখানোই সব নয়, এর পেছনে আরও অনেক কিছু আছে। যেমন ধরুন, জাপানি শিক্ষার্থীরা সরাসরি চোখে চোখ রেখে কথা বলতে একটু ইতস্তত করে, যেটা আমাদের এখানে শ্রদ্ধার প্রতীক হলেও তাদের কাছে অন্যরকম মানে হতে পারে। আবার, মধ্যপ্রাচ্যের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রশ্ন করার ধরণ বা শিক্ষকদের সাথে তাদের ইন্টারঅ্যাকশনের স্টাইল আমাদের পশ্চিমা শিক্ষাদান পদ্ধতির থেকে অনেকটাই আলাদা। মনে আছে, একবার এক ক্লাসে আমি একটা কৌতুক বলেছিলাম, যেটা আমাদের সংস্কৃতিতে খুব স্বাভাবিক, কিন্তু ওদের কাছে সেটা বেশ অস্বস্তিকর লেগেছিল, কারণ তারা সেটার গভীরে প্রবেশ করতে পারছিল না। আসলে, প্রত্যেক সংস্কৃতির নিজস্ব শেখার ধরন, প্রশ্ন করার রীতি, এমনকি হাসির ধরণও ভিন্ন!
এই যে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো, এগুলো যখন আমরা বুঝতে পারি না, তখনই ক্লাসরুমে ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়। ব্যাপারটা এমন যেন দুটো ভিন্ন ভাষার মানুষ একই শব্দ ব্যবহার করেও ভিন্ন কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছে। এই কারণেই সাংস্কৃতিক পার্থক্যগুলো এত চ্যালেঞ্জিং। শুধু ভাষা শেখা নয়, একটা নতুন সংস্কৃতিকে মানিয়ে নেওয়াও শেখার অংশ, তাই না?

প্র: এই সাংস্কৃতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে এবং ক্লাসরুমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে একজন TESOL শিক্ষক বাস্তবিকভাবে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন?

উ: একদম ঠিক ধরেছেন! শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই তো হবে না, সমাধানের পথও বের করতে হবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রথমত, আপনার শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি সম্পর্কে আগে থেকেই একটু হোমওয়ার্ক করে যাওয়া খুব জরুরি। যেমন, তারা কোন দেশ থেকে আসছে, তাদের শেখার পদ্ধতি কেমন, কোন বিষয়ে তারা সংবেদনশীল হতে পারে—এগুলো আগে থেকে জানা থাকলে অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়। দ্বিতীয়ত, ক্লাসরুমে একটা খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করুন। আমি প্রায়ই ক্লাসের শুরুতে ‘সাংস্কৃতিক আড্ডা’ টাইপের সেশন করি, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে একে অপরের সাথে শেয়ার করে। এতে শুধু তাদের ভাষার দক্ষতা বাড়ে না, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়াও তৈরি হয়। একবার আমার ভিয়েতনামী এক ছাত্র তার দেশের নববর্ষের রীতিনীতি নিয়ে কথা বলেছিল, যা শুনে সবাই মুগ্ধ হয়েছিল!
তৃতীয়ত, আপনার পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন সংস্কৃতির উদাহরণ ব্যবহার করুন। ধরুন, আপনি যখন কোনো উৎসব নিয়ে কথা বলছেন, তখন শুধু পশ্চিমা উৎসব নয়, অন্যান্য দেশের উৎসবগুলোকেও তুলে ধরুন। চতুর্থত, শরীরের ভাষা (body language) এবং ইশারা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। কারণ, এক সংস্কৃতির স্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি অন্য সংস্কৃতিতে ভুল বার্তা দিতে পারে। আমি দেখেছি, যখন আমরা শিক্ষক হিসেবে নিজেদের আরও নমনীয় আর সহনশীল করে তুলি, তখন শিক্ষার্থীরাও আমাদের প্রতি আরও বেশি আস্থা রাখতে শুরু করে। এতে ক্লাসরুমটা শুধু একটা শেখার জায়গা থাকে না, বরং একটা ছোটখাটো সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়, আর এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি!

প্র: অনলাইন শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কতটা পরিবর্তিত হয়েছে এবং এর নতুন চ্যালেঞ্জ বা সুযোগগুলো কী কী?

উ: অনলাইন শিক্ষার ব্যাপারটা তো পুরো খেলাটাই পাল্টে দিয়েছে, তাই না? আমি যখন প্রথম অনলাইন ক্লাস নিতে শুরু করি, ভেবেছিলাম খুব সহজ হবে, কিন্তু কদিন যেতেই বুঝলাম, এখানেও নিজস্ব চ্যালেঞ্জ আছে। আগে যেখানে ক্লাসরুমে বসে একজন শিক্ষার্থীর মুখ দেখে তার অনুভূতি বোঝা যেত, এখন ক্যামেরার ওপাশ থেকে সেটা আন্দাজ করা কঠিন। যেমন, অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগ বা ডিভাইসের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো অংশগ্রহণ করতে পারে না, আর আমরা মনে করি তারা হয়তো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। একবার আমার এক মিশরীয় শিক্ষার্থীকে দেখলাম সে খুব মনমরা হয়ে বসে আছে, পরে জানলাম তার এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল!
এসব ছোট ছোট বিষয়গুলো অনলাইন ক্লাসে বড় প্রভাব ফেলে। তবে এর অনেক সুযোগও আছে! এখন তো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীকে শেখানো সম্ভব, তাই না? আমি তো এখন বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশের শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করি। এতে আমার নিজের সাংস্কৃতিক জ্ঞানও অনেক বেড়েছে। এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হলে, আমাদের শিক্ষকদের আরও বেশি প্রযুক্তি-বান্ধব হতে হবে এবং এমন টুলস ব্যবহার করতে হবে যা শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। যেমন, কিছু ডিজিটাল হোয়াইটবোর্ড আছে যেখানে সবাই একসাথে কাজ করতে পারে, এটা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করে। এছাড়াও, অনলাইন ক্লাসে সময়ের পার্থক্য (time zone) একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ক্লাস শুরুর সময় নির্ধারণ বা অ্যাসাইনমেন্টের ডেডলাইন দেওয়ার সময় সবার পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখাটা খুব জরুরি। আমার মতে, অনলাইন শিক্ষা আমাদেরকে আরও বেশি বিশ্বজনীন হতে শেখাচ্ছে এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতাকে কেবল একটি ‘বিশেষ দক্ষতা’ না রেখে, এটিকে এখন শিক্ষকতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement